বুধবার ১২ আগস্ট ২০২৬ - ২০:৫০
ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া: ন্যায়পরায়ণ, সৎ, ধার্মিক এবং ইতিহাসের সবচেয়ে মযলূম ব্যক্তি!

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়াকে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপনের অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ফুজাইরার বাসিন্দা ও খলিফা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আল-আওয়াদি ৭৩টি পর্বের অনলাইন আলোচনায় ইয়াজিদের জীবনী, আহলে বাইতের প্রতি তার কথিত ভালোবাসা এবং কারবালা ও হাররার ঘটনায় তার ভূমিকা নিয়ে প্রচলিত ঐতিহাসিক বয়ানের বিপরীত দাবি তুলে ধরেছেন। লেখাটিতে এ উদ্যোগের সমালোচনা করে ইয়াজিদের চরিত্র ও ঐতিহাসিক ভূমিকা নিয়ে সুন্নি-শিয়া ঐতিহ্যে থাকা বিভিন্ন বর্ণনার উল্লেখ করা হয়েছে এবং এ ধরনের প্রচেষ্টার রাজনৈতিক ও ধর্মীয় তাৎপর্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, মোহাম্মদ আল-আওয়াদি, আমিরাতের খলিফা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন স্নাতক, একজন ভার্চুয়াল অ্যাক্টিভিস্ট এবং ফুজাইরার বাসিন্দা, "ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়াকে অবশ্যই পুনরায় পরিচিত করাতে হবে"-- এ শিরোনামে ৭৩টি সেশনে (জালাসা) ইয়াজিদের (আল্লাহ তাকে অভিশাপ দিন) একটি মনগড়া চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।

এই আলোচনাগুলোর বিষয়াদির মধ্যে রয়েছে:

· ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার জীবনী

· আহলে বাইতের প্রতি ইয়াজিদের ভালোবাসা

· ইয়াজিদকে ভালোবাসার বাধ্যবাধকতা

· ইয়াজিদের প্রতি ঐতিহাসিকদের অবিচার

· ইয়াজিদ, ইতিহাসের সবচেয়ে মযলূম শাসক

· জান্নাতে ইয়াজিদ চিরস্থায়ী বাসিন্দা

· কারবালার অপরাধে ইয়াজিদের কোনো ভূমিকা নেই

· হাররার ঘটনায় ইয়াজিদের কোনো ভূমিকা নেই

সুন্নি ও শিয়া নির্বিশেষে মুতাওয়াতির ও অকাট্য সূত্রে ইয়াজিদের লাম্পট্য ও অনৈতিকতার কথা বারবার উল্লেখ করা হয়েছে, এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওয়াহহাবীরা ইয়াযীদের এ সব অপরাধ এবং চারিত্রিক নৈতিক স্খলন ও বিচ্যূতিকে অস্বীকার করছে।

কিন্তু লক্ষণীয় বিষয় হলো:শিয়া-সুন্নী ইতিহাস গ্রন্থাদিতে অপরাধী, অনৈতিক, ব্যভিচারী এবং কারবালার শহীদদের হত্যাকারী হিসেবে পরিচিত ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়াকে পবিত্র করণ এবং যাবতীয় দোষ ও অপরাধ থেকে তাকে নির্দোষ দেখানোর প্রচেষ্টা বর্তমান ইসলামী বিশ্বে আমিরাতের জন্য কি কোনো উপকার,লাভ ও কল্যাণ বয়ে আনবে?!!!!

আরব দেশগুলোর ওয়াহহাবী সালাফী শয়তানগুলো এখন হারামজাদা বনী উমাইয়ার খলীফাগণ বিশেষ করে জাহান্নামের কীট ইয়াযীদ বন্দনায় মেতে উঠেছে। ইনশাআল্লাহ কিয়ামত দিবসে ইয়াযীদ প্রেমিক এ সব ওয়াহহাবী সালাফীর হাশর ও নশর তাদের প্রাণপ্রিয় নেতা ও ইমাম ইয়াযীদের সাথেই হবে!!!কারণ, মানুষ যাকে ভালবাসে তার সাথেই তাদের হাশর-নশর হবে কাল কিয়ামত দিবসে।

সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে:

المرءُ مع من أحبَّ [يعني حديث: جَاءَ رَجُلٌ إلى رَسولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عليه وسلَّمَ فَقالَ: يا رَسولَ اللَّهِ، كيفَ تَقُولُ في رَجُلٍ أحَبَّ قَوْمًا ولَمْ يَلْحَقْ بهِمْ؟ فَقالَ رَسولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عليه وسلَّمَ: المَرْءُ مع مَن أحَبَّ]

আব্দুল্লাহ ইবনে মাস'ঊদ (রা) বলেন:এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহর (সা) কাছে এসে আরয করল:"হে রাসূলাল্লাহ!আপনি ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে কীরূপ ধারণা,মন্তব্য ও অভিমত পোষণ করেন যে কোনো কওমকে (সম্প্রদায় বা গোষ্ঠী) ভালবাসে অথচ সে তাদের সাথে মিলিত হয় নি?"তখন রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন:"প্রত্যেক ব্যক্তি যাকে ভালবাসে তার সাথেই (কাল কিয়ামত দিবসে) থাকবে (এবং একসঙ্গে উত্থিত হবে)।

এ সহীহ হাদীসটি।

 ইমাম বুখারী স্বীয় সহীহ গ্রন্থে (হাদীস নং ৬১৬৪) এবং ইমাম মুসলিম স্বীয় সহীহ গ্রন্থে (হাদীস নং ২৬৪০) পূর্ণ সনদ সহ উল্লেখ করেছেন।

মুহাদ্দিস মুহাম্মদ জারুল্লাহ আস-সা'দী আন-নাওয়াফিহ আল-আত্বিরাহ,হাদীস নং ৩২৯ উল্লেখ করেছেন।

خلاصة حكم المحدث : صحيح

الراوي : عبدالله بن مسعود | المحدث : محمد جار الله الصعدي | المصدر : النوافح العطرة | الصفحة أو الرقم : 329

| التخريج : أخرجه البخاري (6168)، ومسلم (2640)

আর পবিত্র কুরআনে এরশাদ হয়েছে:

ইয়াওমা নাদ'ঊ কুল্লা উনাসিন্ বিইমামিহিম্ (স্মরণ কর সেই দিনকে যখন আমরা প্রত্যেক মানব সম্প্রদায় ও গোষ্ঠীকে তাদের ইমাম (নেতা) সমেত আহ্বান করব ও ডাকব (সূরা-ই ইসরা বা বনী ইসরাঈল [১৭নং সূরা]:৭১ নং আয়াত)।

یوم ندعواْ کل أناس بإمامهم

আরব দেশগুলোর এই সব ওয়াহহাবী সালাফীরা হচ্ছে ইয়াযীদের ভক্ত,অনুরাগী, গুণগ্রাহী ও অনুসারী।আসলে ওয়াহহাবী সালাফীরা শিয়া মাযহাব ও আহলে সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত নয়।এ সব ইয়াযীদ প্রেমিক আরব ওয়াহহাবী সালাফী আসলে খ্বারিজী- নাসিবী সম্প্রদায় যারা মহানবীর (সা)আহলুল বাইতের (আ) দুশমন তাদের মতো।

মুহাম্মদ আবদুর রহমান

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha